ভবিষ্যৎ

রাশা তাকিয়ে দেখে নিয়ন সাইনটির নীচে লেখা – এ প্লেস ফর হোয়াটেভার ইউ লাইক…। গটগট করে ভিতরে ঢুকে যায় সে। মন-মেজাজ কিছুদিন ধরে বেশ খারাপ। প্রশস্ত করিডোর ধরে এগিয়ে যায়। শেষ মাথায় একটা লিফট। লিফটের সামনে দাঁড়াতেই বুক খুলে দেয় এটি।

লিফটের ভিতরে আরো কয়েকজন তরুণ। সবাই কি তারই মত বিষণ্ণ? কাকে প্রশ্ন করে সে নিজেই জানে না। তবে তরুণদের বেশ বিভ্রান্ত আর বিরক্ত বলে মনে হয় তার কাছে। একপাশে গুটিসুটি মেরে কোনোমতে সাতশো বিশ তলার জন্য অপেক্ষা করে। বেশি সময় লাগার কথা না। বড়জোর দু’আড়াই মিনিট। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক লিফটের এই সুবিধা। ঘর্ষণজনিত বাধা এড়িয়ে সাই করে পাখির মত ছুটে যেতে এর জুড়ি নেই। 

ওয়েলকাম টু দ্য প্লেজার হেভেন। মিষ্টি একটা কণ্ঠের চিকন সুর ভেসে আসে। ঝাঁক ঝাঁক তরুণ, বৃদ্ধ হাসিমুখে বেরিয়ে আসছে। তাদের প্রত্যেকের মুখে একটা তৃপ্তির ছাপ। রাশা মাঝে মাঝে আসে এ ধরনের হেভেনগুলোতে। সত্যি এর তুলনা নেই। 

কী হবে রাশা? কী চাই তোমার? প্রশ্ন করে রিহানা। এই হেভেনের প্লেজার-প্রোভাইডার। অনিন্দ্য সুন্দর হাসি ওর।

 

কী চাই তোমার নিশ্চয়ই ভালো করেই জানা আছে। বিরক্তির সাথে জবাব দেয় রাশা। 

তা অবশ্য ঠিক। মৃদু হেসে বলে রিহানা। 

রিহানার শরীরের দিকে তাকায় রাশা। মুগ্ধ হয়ে লক্ষ্য করে তার ত্বক আগের চেয়ে আরো মসৃণ। প্রযুক্তির এ যুগে হওয়াটাই স্বাভাবিক। চুলও গতবারের তুলনায় বেশি সিল্কি মনে হয় রাশার কাছে। 

প্রাচীন যুগের মত এখন আর কেউ বিয়ে করতে চায় না। বিয়েটা ছিল এক সামাজিক প্রথা। কিন্তু বর্তমানে আগের সমাজকাঠামো ভেঙে গেছে অনেক আগেই। তাই কেউ আর ঝামেলায় যেতে আগ্রহী না। তবে ওই প্রথাটা উঠে যাওয়ায় একটু কেমন কেমন লাগে আরকি।

রিহানা কাপড় ছাড়তে হেল্প করে রাশাকে। মুখে একটা হাসি ঝুলিয়ে প্রশ্ন করে- কেমন হবে? এন সিক্সটি ফাইভ, এম নাইন্টি, না এইচ ওয়ান টুয়েন্টি? 

ওয়ান টুয়েন্টি।

গুড। কিন্তু এতে তোমার শারীরিক, মানসিক ক্ষতি হওয়ার আশংকা আছে, জানো তো?

থাকুক।

মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরনে মৃদু থেকে উচ্চ মাত্রার একটা অনুরণন খেলা করতে থাকে রাশার। গতি বাড়ায় রিহানা। রাশা বুঝতে পারে তার ব্রেনে তখন সেরেটোনিন, ডোপামিনের খেলা। 

কয়েকবছর আগে থেকে বাচ্চাও জন্ম নিচ্ছে ল্যাবে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে প্রত্যেকটা বাচ্চাই সুপার হিউম্যান। নতুন পদ্ধতিতে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য স্পার্ম প্রয়োজন হয় না। শুধু তাই না, একটা চুল কিংবা নখের ডিএনএ থেকেই পিতার সকল বৈশিষ্ট্য কপি করা হচ্ছে পরের প্রজন্মে। 

তোমার নতুন চামড়াটা বেশ। উন্নত সিন্থেটিকের মনে হচ্ছে? চূড়ান্ত মুহূর্তে হাসিমুখে প্রশ্ন করে রাশা।  

হুম। রাশার মাথা থেকে স্টিমুলেটরটি ডিসকানেক্ট করতে করতে রিহানার ছোট্ট জবাব।

স্টিমুলেটরের মাধ্যমে মস্তিষ্কে ডোপামিনের রিলিজ ঘটিয়ে সুখ প্রাপ্তি বিজ্ঞানের এক অসামান্য আবিষ্কার। মাঝে মাঝে তাই নিজের বিশেষ অঙ্গটিকে বেশ অসহায় মনে হয় রাশার। আগে যাহোক এটি পেচ্ছাবের পার্ট হিসেবে কিছুটা ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে এই ব্যাপারটাও আর নেই। ইউরিন ব্লাডারে ছোট্ট একটা সার্জারি। ব্যাস। অবশ্য- তারপর- কিছুটা বেশি সোয়েটিং হয়, এই যা। ফলে ‘ছোট কাজ’ একেবারেই করতে হয় না। 

কয়েকবছর পরের ঘটনা।

পৃথিবীতে বেশ হইচই। বিজ্ঞানীরা ‘একটা কিছু’র নতুন নামকরণ করেছেন। এই নিয়ে বাগবিতণ্ডা চারদিকে।

জানা গেছে, বিজ্ঞানীরা পুরুষের একসময়ের দোর্দন্ড, প্রতাপশালী বিশেষ অঙ্গটির নামকরণ করেছেন-

‘এপেন্ডিক্স-২’

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত